কান ব্যাথার কারণগুলো কি? আর এটি থেকে মুক্তি পেতে কি করবেন?

কান ব্যাথা

আমাদের অনেকসময়ই অসাবধানতা বশত কানে পানি ঢুকে দারুণ ব্যাথার সৃষ্টি করে। কানের ব্যাথা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। কানে পানি ঢোকা ছাড়াও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা, দুর্ঘটনায় কানে ব্যাথা পাওয়া, ফাঙ্গাস, কানের ভেতরে ব্রণের সমস্যা, কানের কোনো রোগ ইত্যাদি সহ আরও নানা কারণে কানে তীব্র ব্যাথা হতে পারে। এসময় ভুল করে কানে আঙুল বা কটন বাড ঢুকিয়ে আরাম পাবার চেষ্টা করা যাবে না। এসময় বরং কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যায়।


গরম ভাপঃ
পানির গরম ভাব এসময় দারুণ উপকারে আসতে পারে। তাই একটি বোতলে কিংবা হট ব্যাগে গরম পানি নিয়ে অথবা একটি সুতি পাতলা কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে কানের কাছে চেপে ধরুন। গরম ভাপ কানের ভেতরে গেলে কানের ভেতরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং কানের ব্যাথা উপশম হবে।

রসুন ও তিলের তেলঃ 

রসুনে বিদ্যমান একধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান, কানের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের ব্যাথা উপশমে দারুণ কাজ করে। ২ টেবিল চামচ তিলের তেলে ১ চা চামচ থেঁতো করা রসুন ফুটিয়ে নিন ২/৩ মিনিট। রসুন ছেঁকে নিয়ে এই তেল ঠাণ্ডা হতে দিন। তেল ঠাণ্ডা হলে ২/১ ফোঁটা তেল কানের ভেতর দিয়ে দিন। ব্যাথা কমে যাবে।

আদাঃ 

আদায় রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা দ্রুত কানের ব্যাথা উপশমে বেশ কার্যকরী। সেক্ষেত্রে তাই আদা ছেঁচে নিয়ে তার তাজা রস ২/৩ ফোঁটা কানের ভেতর দিতে হবে। এতে ব্যাথা উপশম হবে। এছাড়াও আদা থেঁতো করে তিলের তেলে ফুটিয়ে তেল কানের ভেতর দিতে পারলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

অলিভ অয়েলঃ অলিভ অয়েলের মাধ্যমে কানের ব্যাথায় উপকার পাওয়া যায়। তাই প্রথমেই অলিভ অয়েল গরম করে নিয়ে, কুসুম গরম থাকতে থাকতেই ৩/৪ ফোঁটা অলিভ অয়েল ড্রপার দিয়ে কানের ভেতর দিতে হবে। এতে কানের ইনফেকশনজনিত ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে খুব দ্রুত।

লবণঃ 

একটি প্যানে লবণ দিয়ে ভাজতে থাকুন। লবণ বাদামী বর্ণ ধারণ করলে তা চুলা থেকে নামিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে নিয়ে কানের এই লবণের গরম ভাপ নিন। এতে করে কানের ব্যাথা তাৎক্ষণিকভাবে উপশম হবে।

এভাবেই সহজ পদ্ধতিতে ঘরে বসে কানের যন্ত্রণাদায়ক ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

No comments

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.