জেনে নিন সোরিয়াসিস কি? এবং কি এর প্রতিকার?

সোরিয়াসিস

সোরিয়াসিস ত্বকের এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অসংক্রামক রোগ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় বিশেষত কপালে ও মাথা, পিঠ, হাত, পায়ের তালু, নাক, স্তনের নিচে লাল রঙের উঁচু প্লাকের মতো চুলকানি সৃষ্টি হয় এবং এটা রুপালি আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে। এ রোগে আক্রান্ত বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা দুই ভাগ। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী এ রোগে প্রকোপের হার শতকরা ১.৮ থেকে দুই ভাগ। তিন ধরনের সোরিয়াসিস খুব বেশি দেখা যায়। প্লেক সোরিয়াসিস, গাটা সোরিয়াসিস, পাসচুলার সোরিয়াসিস। সোরিয়াসিসের প্রকৃত কারণ অজানা তবে কিছু বিষয় এ রোগের প্রকাশ ও লক্ষণ ত্বরান্বিত করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জেনেটিক বা বংশগত। যদি বাবা-মার কোনো একজনের সোরিয়াসিস থাকে তাহলে বাচ্চাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ। যদি ইতোমধ্যে পরিবারের কোনো বাচ্চার এ রোগ হয়ে থাকে তাহলে এর হার আরো বেশি হবে। যদি মনোজাইগোটিক যমজ হয় তাহলে এ রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা শতকরা ৮০ ভাগ।


আঘাত প্রাপ্তি :
যখন এ লাল রুপালি আঁশযুক্ত লেসিওন বের হয় তখন ওই স্থানে কোনো আঘাত বা চুলকালে এ রোগের বিস্তৃতি ঘটে।
ইনফেকশন বা প্রদাহ : বিশেষত বিটা হেমোলাইটিকাস স্ট্রেপটোকক্কাল প্রদাহের কারণে এর প্রকোপ বাড়তে পারে।
সূর্যরশ্মি : সূর্যরশ্মি বিশেষত আলট্রাভায়োলেট রশ্মি সোরিয়াসিসের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক অস্থিরতা : বিশেষ দুশ্চিন্তা এর বিস্তৃতি ঘটায়।

ওষুধ :
যেমন অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, বিটা ব-কারস, লিথিয়াম এ রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।
জননের কারণ : প্রধানত দুই কারণে এ রোগ হয়। একটি হলো চামড়ার কোষ বা কেরটিনোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি বা প্রলিফারেশন এবং এর সঙ্গে অস্বাভাবিক মাইটেসিস দ্বিতীয়টা হলো বেশি প্রদাহের কারণে ইনফ্লামেটরি সেল যেমন নিউট্রোফিল, টি-লিমফোসাইট এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষের কারণে এটা তৈরি হয়।

লক্ষণসমূহ :
৬০ ভাগ রোগীর কপালে এ লালপ্লাক যা রুপালি আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকে প্রকাশ পায়। কী কারণে কপালে বেশি হয় এটা স্পষ্ট নয়।
নখ : নখ, নিচের নখের বিছানা থেকে আলাদা হওয়া এবং ছোট্ট ছোট্ট গর্ত বা লিটিং তৈরি হয়।
তালু : হাত ও পায়ের তালুতে শুধু লালচে প্লাফ কোনো কোনো সময় এটা দেখা যায় না।
ফ্লেক্সার সারফেস : যেমন স্তন ও বগলের নিচে লালচে প্লাক তৈরি হয় এটা রুপালি আঁশ দিয়ে ঢাকা থাকতেও পারে, নাও পারে।
রোগনির্ণয় : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে ক্লিনিক্যাল ও ফিজিক্যাল পরীক্ষা করার পর নির্দেশমতো নিচের টেস্টগুলো করতে হবে।
থ্রোট সোয়ারব বিটা হেমোলইটিক্সস শনাক্তকরণের জন্য। বায়োপসি-চামড়ার বায়োপিস সর্বোত্তম এবং রোগনির্ণয় টেস্ট।

চিকিৎসা :
রোগীকে আশ্বস্ত করা, সান্ত্বনা দেয়া সঠিক ওষুধ সেবন এ রোগের জন্য খুবই জরুরি। মদ্যপান কামনা বা বাদ দেয়া। যেসব কারণে সোরিয়াসিসের প্রকাপ বাড়ে সেগুলো থেকে দূরে থাকে।
ওষুধ : স্থানীয়ভাবে লাগানোর জন্য ক্রিম যেমন অ্যামেলিয়েন্ট কটিকোস্টরয়েড, ভিটামিন ডি প্রতিরোধক, হাল্কাটার চিকিৎসকের পরামর্শমতো আল্টাডায়েনেট থেরাপি যেমন ইউপিএ পিইউডিএ সিস্টেমিক এজেন্ট যেমন সাইক্লোস্পেরিন মেথোট্রেকজেট, ওরাল রেটিনসেভস।

No comments

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.