আসুন জেনে নেই - ক্যাস্টার ওয়েলের নানাবিধ কার্যকারিতা ও এই তেলের সঠিক ব্যবহার

আসুন জেনে নেই - ক্যাস্টার ওয়েলের নানাবিধ কার্যকারিতা ও এই তেলের সঠিক ব্যবহার




মানুষের সৌন্দর্য্যের কথা আসলেই চোখ, ঠোঁট,নাক সহ আর যে যে নামগুলো আসে তার মধ্যে চুল অন্যতম। ঘন কালো স্বাস্থ্য উজ্জ্বল চুল মানুষের সৌন্দর্যকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়। আর চুলের যত্নে তেলের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। চুলের যত্নে নারিকেল তেল সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। আর এই নারিকেলের তেলের সাথে আমন্ড ওয়েল ও ক্যাস্টার ওয়েল সমপরিমান মিশিয়ে হালকা গরম করে স্কাল্ভে লাগালে চুল ঘন হয়, দ্রুত লম্বা ও স্বাস্থ্য উজ্জ্বল হয়।


ক্যাস্টার ওয়েলে রয়েছে প্রচুর পরিমান এন্টি অক্সিডেন্ট। আরও রয়েছে মাথার ত্বকে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ ও প্রদাহ সংক্রমণ রোধী উপাদান। আরও রয়েছে ফ্যাটি এসিড, যা চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক।


★ ক্যাস্টার ওয়েলের উপকারিতা ও ব্যবহারবিধি নিম্নে দেয়া হলো :-


ক্যাস্টার ওয়েলের উপকারিতা --


১/ ক্যাস্টার ওয়েলে বিদ্যমান ব্যাক্টেরিয়া ও প্রদাহরোধী উপাদান থাকায় চুলের স্কাল্ভের বিভিন্ন সংক্রমণ দূর করতে সক্ষম।  এর ফলে খুশকি, চুলকানির সমস্যা, চুল পরা জনিত সমস্যা দূর হয়।


২/ ক্যাস্টার ওয়েলে বিদ্যমান ওমেগা - ৩ ও ফ্যাটি এসিড  মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে চুলের ক্ষয় পূরন করে ও অকাল পক্কতা দূর করে।


৩/ ক্যাস্টার ওয়েল চুলের ঘনত্ব বাড়াতে ও দ্রুত লম্বা করার সাথে সাথে চুলের গোড়া শক্তিশালী করতে ক্যাস্টার ওয়েল খুবই কার্যকারী।


৪/ এই তেলে ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর করে এবল চুলপর আগা ফাটার সমস্যাও দূর করে। চুলের রুক্ষতা কমার কারনে চুলের জটালো ভাবও কমে।


৫/ এই তেলে রয়েছে লিনোলেইক ও আলেইক অ্যাসিড। এগুলো থাকার কারণে নানা রকমের দূষন, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবন যাপনের ফলে চুলের যে ক্ষতিগুলো হয় তা দূর হয়।


ক্যাস্টার ওয়েলের উপকারিতা --


★এই তেলে সরাসরি চুলের না লাগিয়ে নারিকেল তেল বা সরিষার তেল বা বাদাম তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে মাথায় স্কাল্ভে লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসেজ করে নিতে হবে। এই তেলের মিশ্রণটি সামান্য গরম করে নিলে ভালো হয়। 


★এতে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মাথার ত্বকে ও চুলে পুষ্টি সরবরাহ হয়। স্কাল্ভের ফ্যাঙ্গাস ইনফেকশন দূর হয়।


★এই তেল কন্ডিশনারের কাজও করে। শ্যাম।পু করার পর যাতে জট না লাগে তাই ভেজা চুলেই ২ ফোঁটা তেল হাতে নিয়ো চুলে মেখে নিলে চুল হয় মসৃণ। 


★সমপরিমাণ ক্যাস্টার ওয়েল ও অলিভ ওয়েলের সাথে ৪- ৫ টা জবা ফুলের পাপড়ি মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করে গরম তোয়ালে প্যাঁচিয়ে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতলে চুল দ্রুত বাড়ে।


★ শুধুমাত্র চুলের ঘনত্ব বাড়াতেই নয় ভ্রু ও চোখর পাতার আইলেশের ঘনত্ব বৃদ্ধিতেও ক্যাস্টার ওয়েল ব্যবহৃত হয়।


সাবধানতা --

এই তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জেনে বয়বহার করলে উল্টো রিয়েকশন হতে পারে। তাউ ব্যবহারের নিয়ম জেনে ও সে অনুযায়ী এই তেল লাগাতে হয়।

নারিলকেল বা অন্যান্য যে কোন তেলের সমপরিমাণ ক্যাস্টার ওয়েল নিতে হবে বেশি কোন ভাবেই নয়। এই তেলে লাগিয়ে খুব বেশি দিন শ্যাম্পু না করে রেখে দেয়া মোটেও ঠিক হবে না।যেহেতু এই তেল একটু ঘন তাই পুরো চুলে না লাগিয়ে শুধু স্কাল্ভেই লাগানো ভালো।


হালকা হলুদ রঙ্গের এই তেলে ক্যাস্টর বিনস থোকে তৈরি হয়। আর অতি প্রচীন কাল থেকেই এই তেলে চুলের বৃদ্ধি ও আদ্রতা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


No comments

Theme images by chuwy. Powered by Blogger.